সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের ৫% কোটা বাতিল করল মহারাষ্ট্র সরকার

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

মহারাষ্ট্র সরকার ২০১৪ সালে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা মুসলিমদের জন্য শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে ঘোষিত ৫ শতাংশ কোটা সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক আদেশ বাতিল করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই কোটা কার্যকর করতে চালু করা জাতিগত যাচাই ও বৈধতা সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও আর বহাল থাকবে না।

সরকার জানায়, তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে পরিণত হয়নি। ফলে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪-এ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এর আগেই বোম্বে হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে এ কোটার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, যেহেতু অধ্যাদেশটি আর কার্যকর নেই, তাই এর ভিত্তিতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে জারি করা সব সরকারি প্রস্তাব ও পরিপত্রও বাতিল বলে গণ্য হবে। এর মধ্যে বিশেষ শ্রেণি (এসবিসি-এ) হিসেবে মুসলিমদের জাতিগত সনদ ইস্যুর নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত। অনেকে এ পদক্ষেপকে ‘কারিগরি সিদ্ধান্ত’ বলছেন, কারণ আইনি জটিলতার কারণে কোটা কখনও বাস্তবে কার্যকর হয়নি।

২০১৪ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস-এনসিপি সরকার মারাঠাদের জন্য ১৬ শতাংশ এবং মুসলিমদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা ঘোষণা করেছিল।পরে সরকার পরিবর্তনের পর অধ্যাদেশটি আইনে রূপ না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ (মহারাষ্ট্র)। সংগঠনটি ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেছে, আইনি যুক্তিদেখালেও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাদের মতে,শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু মুসলিম শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ওপর এর প্রভাব পড়বে।

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ক্লাইড ক্রাস্টো সিদ্ধান্তটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এটি মুসলিমদের জন্য আগে ঘোষিত কোটাকে কার্যত বাতিল করার শামিল। সূত্র :মাকতূব মিডিয়া।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: