কেনিয়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নিয়ে বিক্ষোভে নিহত ২

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২ জুন ২০২৬ ২২:৪৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপনের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
কঙ্গো বা উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাস সংক্রমিত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের রাখার জন্য কেনিয়ার নানয়ুকি শহরে লাইকিপিয়া বিমান ঘাঁটির কাছে ৫০ শয্যার এই কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় বাসিন্দারা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং এই কেন্দ্রের ফলে নিজ দেশের জনগণ ইবোলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা প্রতিবাদ জানিয়েছে।
 
তাদের অভিযোগ, নিজেদের দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র জোর করে কেনিয়ার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সোমবার নানয়ুকি শহরে শত শত মানুষ এই কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। তারা টায়ার পুড়িয়ে ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
 
বিক্ষোভের প্রধান সংগঠক প্যাট্রিক ওয়াহোমে জানান, বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাও দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে মৃত্যুর কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি। ওদিকে, পুলিশ মুখপাত্র মাইকেল মুচিরি এই মৃত্যুর বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন।
 
গত সপ্তাহে কেনিয়ার একটি আদালত মানবাধিকার গোষ্ঠীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানগুলো সেখানে কর্মী ও যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়া অব্যাহত রাখায় জনরোষ আরও বেড়েছে।
 
মঙ্গলবার আদালত কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র নির্মাণের কাজে নিষেধাজ্ঞা আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে এবং কেনিয়া সরকারকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই কেন্দ্রটি স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৩ জুন। ওদিকে বিক্ষোভ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। সোমবার রাতে এই বিতর্কিত বিষয়ে প্রথম মুখ খোলেন তিনি।
 
কেন্দ্রটি নিয়ে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে রুটো বলেন, এই কেন্দ্র কেনিয়ার জাতীয় মহামারী প্রস্তুতি পরিকল্পনার অংশ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের একটি নিদর্শন। তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কেন্দ্র স্থাপনে আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
 
বর্তমানে পূর্ব কঙ্গো এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ২২০ জনেরও বেশি মানুষের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে শনাক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো ইবোলা আক্রান্ত রোগীকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে দেবে না এবং দিতে পারে না।
 
এর আগে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় বেশ কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও এবার সেই পথ মাড়াচ্ছে না ওয়াশিংটন। গত মাসে কঙ্গোতে আক্রান্ত হওয়া এক যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মপ্রচারক ও তার সংস্পর্শে আসা আরও পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে এবং অন্য একজনকে চেক প্রজাতন্ত্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
 
নানয়ুকির ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মীরা পরিচালনা করবেন। যেসব যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু এখনো কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদের সাময়িকভাবে সেখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীদের শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাদের চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে স্থানান্তর করা হবে।
 
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট রুটো জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং কেনিয়াকে এই বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করার পর তিনি এই কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেন। এটি কেনিয়ান এবং বিদেশী উভয় নাগরিকেরই সেবা করবে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই দাবির বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা দেননি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে রুটো বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকার। আমরা জানি আমরা কী করছি।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: