দিল্লির জন্তর মন্তরে ভিড় জমালেন ‘তেলাপোকা’ বিক্ষোভকারীরা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৬ জুন ২০২৬ ১৯:৩৬

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
‘তেলাপোকা’ জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে ভারতের সংসদ ভবনের নিকটবর্তী রাজধানী দিল্লির একমাত্র ধরণা বা সমাবেশস্থল যন্তর মন্তর। নিটসহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই দলে দলে তেলাপোকা সমর্থক যন্তর মন্তরে হাজির হন।
 
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরেই সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এসে পৌঁছান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তেলাপোকাদের সমাবেশ আটকাতে দিল্লি হাইকোর্টে এক জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল।
 
মামলাকারীদের দাবি ছিল, তেলাপোকাদের সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন ও জাতীয় সড়কের প্রবেশপথগুলোতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেই মামলার জরুরি শুনানি গ্রহণের আবেদন শুক্রবারই খারিজ হয়ে যায়। তারপরই শনিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা নেই। যদিও শুক্রবার রাত থেকেই সাবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিল্লি পুলিশ জাতীয় সড়কগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করে। তা সত্ত্বেও শনিবার সকালেই উপচে পড়ে যন্তর মন্তর।
 
সেই ভিড়েই প্রথম দেখা যায় অভিজিৎ দীপকেকে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা চলে আসেন ধরনাস্থলে। সাদা টি–শার্টের ওপর কালো জ্যাকেট ও কালো টুপি পরা অভিজিৎকে দেখা যায় ভারতীয় সংবিধান রচয়িতা ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী হাতে।
 
যন্তর মন্তরের এক ধারে ছোট এক মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছিল। তার পেছনে এক প্ল্যাকার্ডে সিজেপির প্রতীকের নিচে ইংরেজিতে লেখা ‘পিসফুল প্রটেস্ট’ বা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। সেই মঞ্চে উঠে অভিজিৎসহ তরুণদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চরাচর। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’। হাতে হাতে দেখা যায় প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা, ‘পেপাল লিক সরকার কতবার আসবে?’ বিভিন্ন তরুণ সেখান থেকেই ফেসবুকে শুরু করেন বিক্ষোভ সমাবেশের লাইভ অনুষ্ঠান। যন্তর মন্তরের চারদিকে সতর্ক নজর রেখেছে দিল্লি পুলিশর দাঙ্গা রোধ বাহিনী।
 
মঞ্চে উঠে অভিজিৎ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে স্লোগান দেওয়া ছাড়াও সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না। তারা লড়বে। তেলাপোকা ভয় পায় না, মরেও না। তিনি বলেন, সরকার সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকেই শুধু নজর রেখে গেছে। বুঝতে চাইছে, কারা এই আন্দোলন শুরু করেছে। কারা চালাচ্ছে। অথচ তাদের উচিত ছিল সিজেপির দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া।
 
শনিবারের সমাবেশের মধ্যেই শোনা যায়, সিজেপির দ্বিতীয় বড় সমাবেশ হবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে। আগামী ২৩ জুন।
 
বহু সাধারণ মানুষও এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকে বলেন, এই আন্দোলন দেশের যুব সম্প্রদায়ের মঙ্গলের জন্য।
 
যদিও সমাবেশের মধ্যে এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। সেই ব্যক্তির হাতে ছিল পোকা মারার এক স্প্রে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, এরা সবাই টুকড়ে টুকড়ে গ্যাংয়ের সমর্থক। দেশের একশ্রেণির নাগরিককে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বলেছিলেন, ওরা শহুরে নকশাল। দেশকে তারা টুকরো টুকরো করতে চায়। একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির আন্দোলন শুরু হওয়ার পর জনসমর্থনের জোয়ার দেখে বিজেপিও এই আন্দোলনকারীদের পাকিস্তানপন্থী বলে অভিহিত করেছিল। বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জর্জ সোরস এই আন্দোলনকারীদের প্রধান মদদদাতা।
 
অভিজিৎ দীপকে আগেই জানিয়েছিলেন, তেলাপোকাদের বিমানবন্দরে আসার প্রয়োজন নেই। সবাইকে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। কোনো প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা নিয়ে ধরনাস্থলে আসবেন না। সবার হাতে যেন একটা বই থাকে। জাতীয় পতাকা থাকে। সংবিধান থাকে।
 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: