নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নীতি পরিবর্তনের দাবিতে ইসরায়েলে তীব্রতর হচ্ছে বিক্ষোভ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২১ জুন ২০২৬ ১৮:১৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নীতি পরিবর্তনের দাবিতে আবারো বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইসরাইলের একাধিক শহরের বাসিন্দারা।

একদিকে যখন ইসরাইলের ভেতরে এই তীব্র অসন্তোষ আর বিশৃঙ্খলা চলছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার ইসরাইলের তেল আবিব, জেরুসালেম, হাইফাসহ বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

তেল আবিবের হাবিমাহ স্কয়ারের মূল সমাবেশে অংশ নেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ। সেখানে ৭ অক্টোবরের হামলায় স্বজন হারানো কারমিট পাল্টি কাটজির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়েছে।

নেতানিয়াহু কোনো রাজনৈতিক সমাধান ছাড়াই কেবল নিজের ক্ষমতা বাঁচাতে এই যুদ্ধ টেনে নিচ্ছেন।

এদিকে, বিক্ষোভ দমাতে জেরুসালেমে নেতানিয়াহুর বাসভবনের কাছে আন্দোলনকারীদের সাউন্ড সিস্টেম বা মাইক কেড়ে নেয় পুলিশ। তবে দমানো যায়নি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।

হাইফার এক সমাবেশে অংশ নিয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক উপ-প্রধান এরান এতজিওন সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে তথাকথিত ‘জাতীয় ঐক্যের’ কথা বলে আসলে সাধারণ মানুষের চোখ বেঁধে রাজনৈতিক বিভেদ আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

অভ্যন্তরীণ এই ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করার পর সুইজারল্যান্ডে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।

১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এই প্রথম দু’দেশের মধ্যে এতো উচ্চপর্যায়ের সংলাপের পরিবেশ তৈরি হলো। এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পর ১২ ও ১৩ এপ্রিল দু’দেশের মধ্যে শীর্ষপর্যায়ের সফল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা এখন সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

একদিকে, ইসরাইলের ভেতর নেতানিয়াহু সরকারের পতনঘণ্টা বাজছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের এই কূটনৈতিক অগ্রগতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: