ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্তির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সংস্থার ওপর চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২২ জুন ২০২৬ ১৮:৪১

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির জবাবে প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) খাতের সঙ্গে জড়িত ১০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বৈঠকের এক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ওই বৈঠকে দুই দেশ শুল্ক কমানোর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হলেও প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একটি নতুন কালো তালিকা প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে। তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও রয়েছে।

এর জবাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান’ তালিকা সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়া। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স, ওশকোশ ডিফেন্স, এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থ।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি চলমান সব ধরনের সংশ্লিষ্ট রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের তথাকথিত চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান তালিকায় আরো প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার জঘন্য কর্মকাণ্ডের জবাবে আনা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এই পদক্ষেপ ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার’ জন্যও নেওয়া হয়েছে।

এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স (যার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মহাকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে) এবং ওশকোশ ডিফেন্স, যা সামরিক যানবাহনের বহর তৈরি করে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরল মৃত্তিকা উৎপাদক এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থও রয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানিকারকদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে চলমান যেকোনো প্রাসঙ্গিক রপ্তানি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যেকোনো দেশ বা অঞ্চলের সংস্থা বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে... যারা চীন থেকে উদ্ভূত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানান্তর বা সরবরাহ করে।’

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থাগুলো এখন থেকে ৪৬টি যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানির তৈরি পণ্য কিনতে পারবে না। এই তালিকায় রয়েছে বড় প্রতিরক্ষা কম্পানি লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা বিভাগ।

এ ছাড়া জেনারেল ডাইনামিক্স এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি প্রধান সামরিক ঠিকাদার ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ থাকা কম্পানিগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কারণে এসব কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

এদিকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিরাপত্তায় সমর্থন দিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ এখন পর্যালোচনাধীন। মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: