খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ জুলাই ২০২৬ ২০:২৭

সংগৃহীত সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আসন্ন শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং গবেষকরা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর আবেদন নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই বিদায়ী অনুষ্ঠানটি কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফনানুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় তেহরান। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই তার আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই উপলক্ষে তেহরান প্রদেশে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও বাসসেবা ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া এই ঐতিহাসিক ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক ইতিমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন এবং পুরো আয়োজন চলাকালীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল থাকবে।

সরকারি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৮ জুলাই প্রয়াত নেতার মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ বা নাজাফে নেওয়া হবে, যেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। এরপর নাজাফ ও কারবালায় শোকমিছিল ও স্মরণসভা শেষে ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটি পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদায়ী অনুষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংহতি এবং ভূরাজনৈতিক শক্তির এক অভূতপূর্ব প্রদর্শনী হয়ে উঠবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: