তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করতে ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর সরাসরি আহ্বান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৮ জুলাই ২০২৬ ১৮:৫২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান তুরস্কের কাছে বিক্রির সম্ভাবনার তীব্র বিরোধিতা করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আঙ্কারার কাছে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করবে বলে তিনি দাবি করেন। মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই হুঁশিয়ারি দেন।

সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঙ্কারার বর্তমান সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে প্রভাবিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন। এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শ মিত্র নন এবং তিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে ধ্বংসের হুমকি দেন। এমন একটি দেশের হাতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তুলে দিলে তা শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়াবে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই চুক্তি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

তবে এই ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প আঙ্কারাকে যুক্তরাষ্ট্রের 'অসাধারণ' মিত্র হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রথম মেয়াদে তুরস্কের ওপর আরোপিত এফ-৩৫ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এই মতপার্থক্যের পরও ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি। দুই নেতা নিজ নিজ দেশের স্বার্থে কাজ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের স্বার্থ অভিন্ন।

একই সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোর বিষয়ে ট্রাম্পের কৌশলে তার কিছুটা সন্দেহ থাকলেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সুযোগ দিতে চান। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে মাত্র ১৫০ জন 'উচ্ছৃঙ্খল তরুণের' কাজ বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, পশ্চিম তীরে সম্প্রতি সহিংসতা ও জমি দখলের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও রয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: