ইরানে রাতভর বিস্ফোরণ ঘিরে রহস্য, জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১০ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫০

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনায় নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে নতুন বিস্ফোরণের উৎস ও কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম। তবে নতুন কোনো হামলার সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

মেহর নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর শহর এবং পাশের চোগাদাক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারাক শহরেও আরো তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

তবে কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানে তারা কোনো হামলা চালায়নি।

গত মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে জুনের মাঝামাঝি হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি আরো চাপে পড়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সি বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। একই সাথে তারা এর আগে বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের যে খবর প্রকাশ করেছিল, সেটিও পরে প্রত্যাহার করে।

বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, বুশেহর শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক সদর দপ্তরে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।

এদিকে ইরান থেকে এসব খবর আসার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প তাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইসরাইলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হয়নি। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ তিনি বলেন, অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আকাশসীমায় আধিপত্য ধরে রাখা ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম ভিত্তি।News

ইসরাইলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ‘নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। সামনে আরো বড় ধরনের অভিযান হতে পারে। প্রস্তুত থাকুন।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর আবারো হামলা চালাতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত। তার ভাষায়, ‘আকাশে আবারো আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও ইরানে হামলা চালিয়ে হুমকি দূর করতে আমরা প্রস্তুত।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর নতুন করে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার সূচনা হয়। কাতার ও সৌদি আরবের জাহাজসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমান উপকূলসংলগ্ন নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়।

ইরান চাইছে, সব জাহাজ তাদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করুক। অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে জাহাজ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এই বিরোধের মূল কারণ দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান। ট্রাম্প চান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে হরমুজ প্রণালীতে দ্রুত স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হোক। অন্যদিকে ইরান এমন কোনো পদক্ষেপে রাজি নয়, যাতে ওই প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।

জাহাজে হামলার পর ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে ‘নোংরা লোক’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই ওই সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি।

একই সাথে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আপাতত শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হতে পারে। তবে এর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। এদিকে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও প্রত্যাহার করেছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: