ক্যাম্পেইন বিলবোর্ডে মামদানিকে মোজতবা খামেনির সাথে তুলনা করলেন নেতানিয়াহু

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

প্রচারণার বিলবোর্ডে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তুলনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী দল লিকুদ পার্টির অর্থায়নে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে টানানো ওই বিলবোর্ডে মামদানিকে ইরান, হিজবুল্লাহ ও তুরস্কের নেতাদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি, মামদানি, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও নাঈম কাসেমের মুখচ্ছবির ওপরে লেখা হয়েছে, 'তারা চায় নেতানিয়াহু [তার ডাকনাম বিবি] হেরে যাক।' এরপর হিব্রু ভাষায় আরও লেখা হয়েছে, 'তাদের জিততে দেবেন না।'

নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলবোর্ডটির একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। আগামী অক্টোবরে কঠিন পুনর্নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি।

জনমত জরিপে তার দল মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পথ তৈরি করা নিরাপত্তাব্যর্থতা এবং নেতানিয়াহুর চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দিন দিন আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মামদানি নেতানিয়াহুকে 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে বর্ণনা করেন।

জুলাইয়ে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনি পথ খুঁজে দেখছেন তিনি। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, সেটি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

পরে মামদানি স্বীকার করেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা নিউইয়র্ক শহরের নেই। তবে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি জাতিসংঘের সমাবেশে যোগ দিতে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন মেয়রকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং হামাসকে সমর্থনকারী বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, মামদানির কর্মকাণ্ড 'ঘৃণা উসকে দিচ্ছে'।

মামদানি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কঠোর নিন্দা করেছেন এবং দেশটির কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সহায়তারও তিনি তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তবে তিনি হামাসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে গেছে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে দেশটির যুদ্ধের কারণে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে চলে আসা দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন করার ঐকমত্যে ভাঙন ধরেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: