যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ চরমে: ৭০০-এর বেশি আমেরিকান পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করল অটোয়া

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যবিরোধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের কঠোর জবাবে এবার পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার।

এর ফলে প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার মূল্যের ৭০০-এরও বেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বসাতে যাচ্ছে অটোয়া। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে, যার প্রভাব পড়বে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিকস খাতের ওপর।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সম্প্রতি ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক এবং পরবর্তীতে গাড়ি, ট্রাক ও ইস্পাতের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে নিয়ে কটূক্তিও করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাও চরম বিপাকে পড়তে চলেছেন, কারণ আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিয়েল ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, এই শুল্কের প্রায় ৯৬ শতাংশ আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও ভোক্তাদেরই।

পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কানাডা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের রক্ষায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের একটি বিশাল আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ‘ডলার-ফর-ডলার’ নীতিতে পরিচালিত এই পাল্টা শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে কানাডা। এদিকে, দুই দেশের এই বাণিজ্য উত্তেজনার পারদ দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা উত্তর আমেরিকার সাপ্লাই চেইন ও বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।