ছবি : সংগৃহীত
ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ বিবেকজনিত কারণে কেউ গাইতে অস্বীকার করলে বা পুরোটা না গাইলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মৌখিক পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিমত তলব করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণের দায়ের করা এক রিট পিটিশনের শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ আসে। পিটিশনে জাতীয় গানের সব স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সরকারি বিধি ও শাস্তিমূলক বিধানকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের বিজোই ইমানুয়েল মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষার আওতায় ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কারণে জাতীয় সংগীত বা গান না গাওয়ার জন্য কাউকে কারাবাস বা জরিমানের শাস্তি দেওয়া যায় না।
এর আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী বিলে জাতীয় গানের সুরক্ষায় বিধান করে। এতে গান গাইতে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শুনানিকালে আবেদনকারীর আইনজীবী এস মুরলীধর যুক্তি দেন, গানের শেষ চার স্তবকে হিন্দু দেবীদের উল্লেখ থাকায় তা বাধ্যতামূলক করা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী। অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা ও প্রক্রিয়া সঠিক বলে দাবি করেন। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ১৯৩৭ সালের প্রথা অনুযায়ী মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শের পর থেকে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন মহল এখনো গানটির প্রথম দুটি স্তবকই গেয়ে আসছে।