ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে ‘ইসলামিক জাতিসংঘ’ গঠনের প্রস্তাব

Maisha Mumtaz | ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
তুরস্কের প্রখ্যাত সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি রহ: স্মরণে ইস্তাম্বুলে ১৩তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিয়ে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স’র প্রধান শায়খ আলি মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি। 
 
রোববার তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রভাবশালী আলেমদের সামনে তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন। শায়খ কারাদাগি মনে করেন- এটি বাস্তবায়িত হলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্ব মানবতার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে।
 
এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব মানবিক, ধর্মীয়, নৈতিক এবং সহজাত সঙ্কটে ভুগছে, আর এই সমস্যাগুলো শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল মানুষের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
 
শায়খ কারাদাগি বলেন, ‘গোটা বিশ্ব একটি গ্রামের মতো হয়ে উঠেছে। মুসলিম জাতিকে পুরো মানব জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আমাদের সমস্যা সাধারণভাবে এক ও অভিন্ন এবং তার সমাধানও একই হতে হবে।’
 
এ সময় তিনি শুধু মুসলিম জাতির সমস্যা নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির সমস্যার সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। এই বিবেচনায় যে, ইসলাম সঙ্কট মোকাবেলায় মানবিক সমাধান দিতে সক্ষম। 
 
শায়খ কারাদাগি বলেন, পবিত্র কোরআন ও নবীর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে বুদ্ধিবৃত্তিক ঐক্য অর্জনের জন্য মুসলমানদের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এই ঐক্য সভ্যতা, বিজ্ঞান, উৎপাদন, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত হতে হবে।
 
তিনি জানান, মানবজাতির জন্য তার প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো- বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করা।
 
শায়খ কারাদাগি জাতিসঙ্ঘের বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, জাতিসঙ্ঘ মূলত বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কারণ, সেখানে মাত্র পাঁচটি দেশের ভেটো দেয়ার অধিকার রয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সে অধিকার নেই।
 
সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের পথ ও পদ্ধতিও বলে দেন যে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি এ সময় তিনি গাজার ওপর ইসরাইল ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলার প্রতিও নিন্দা জানান এবং সব সঙ্কট সমাধানে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করেন।
 
উল্লেখ্য, বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (মৃত্যু : ২৩ মার্চ ১৯৬০) ছিলেন একজন সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি ‘রিসালায়ে নূর’ নামক পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা রচনা করেন। এটির আকার ছয় হাজার পৃষ্ঠার অধিক। আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিকে ভবিষ্যতের পথ বিবেচনা করে তিনি সাধারণ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় জ্ঞান ও ধর্মীয় বিদ্যালয়ে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষাদানের পক্ষপাতী ছিলেন। 
 
তার স্মরণে ইস্তাম্বুলের এই সম্মেলনের শিরোনাম ‘বৈশ্বিক সঙ্কটে কোরআনী সমাধান’। এই সম্মেলনে অন্তত ৬০টি দেশের আলেম, গবেষক ও চিন্তাবিদগণ অংশগ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার এটি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।