ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক সংসদ সদস্য সরকারি ফ্ল্যাটে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দা দেয়ার দাবি জানান। পরে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ জামায়াত দলীয় ওই সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন। আর তার এমন প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। এ সময় বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আর বাড়াবাড়ির তো কোনো দরকার নাই।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ আগের দিনের বাজেট আলোচনায় চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের উত্থাপিত দাবি নিয়ে বিদ্রুপ করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে পার্থ রসিকতার সুরে বলেন, যদি ওই সংসদ সদস্যের সত্যিই প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত।
তবে পার্থের এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্পিকার শুরুতেই স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। এরপরও একজন সদস্য সকল সংসদ সদস্যের জন্য একটি সুবিধার কথা বলেছিলেন, সেটিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত মন্তব্য করা সমীচীন হয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি তো আমি মনে করি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। কিন্তু নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে আমি সব দিয়ে দেব। উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ যে উনি দেবেন? আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত, যাতে এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারো সম্মানে আঘাত না করি।’
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে তিনি নিজেসহ সকল সংসদ সদস্য এ ধরনের বিষয়ে আরো সতর্ক থাকবেন।
বিতর্কের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদে রুলিং দিয়ে বলেন, বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করা যায় এবং একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথাও বলতে পারেন। যদিও বিষয়টি সংসদে না বলাই ভালো হতো, তবে এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
স্পিকার বলেন, সংসদের হাউস কমিটির মাধ্যমে সদস্যদের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিজের জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের জন্যই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্কের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি- না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাদের প্রাপ্যও হতে পারে। এই সামান্য বিষয় নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক করতে চাই না। কারণ এটি নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে।’
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেয়ার প্রস্তাবও তার প্রতি অসম্মানজনক বলে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, তিনি নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং সংসদের সরকারি বাসভবনে থাকা সব সদস্যের জন্যই সুবিধা চেয়েছিলেন। এ সময় তিনি সবাইকে ভবিষ্যতে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন এবং দরজা-জানালায় পর্দা সরবরাহের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই পরদিন জাতীয় সংসদে এই এমন পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: