ছবি : গ্রাফিক্স
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, সে দেশগুলোর তালিকা প্রায় ৩ গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছরের আগস্টে প্রথমে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করে। এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই গতকাল বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করল যুক্তরাষ্ট্র।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট–এর খবরে বলা হয়, বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ১৫ হাজার ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য (কয়েকটি ছাড়া) এ বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে মোট ৩৮টি দেশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো। এসব দেশের বেশির ভাগই আফ্রিকার। তবে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে অনেক নাগরিকের জন্যই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে আরোপিত কড়াকড়ি আরও জোরাল করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার প্রয়োজন হয়, তাঁদের সবাইকে সশরীর সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া তাঁদের গত কয়েক বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের ইতিহাস এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আগের ভ্রমণ ও বসবাসের বিস্তারিত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত এ ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানতের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকেরা যাতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় অবস্থান না করেন, সেটি নিশ্চিত করতে এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে এ জামানত জমা দিলেই যে ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হবে, তা নয়। যদি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বা ভিসা পাওয়া ব্যক্তি ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তবে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
নতুন যেসব দেশের ওপর এ ভিসা বন্ডের শর্ত কার্যকর হচ্ছে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।
নতুন করে যুক্ত হওয়া এ দেশগুলো এখন ভুটান, বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে, তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়ার সঙ্গে একই তালিকায় স্থান পেল।
পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে আরও জানিয়েছে, এসব দেশের ইস্যু করা পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ইচ্ছুক কেউ যদি বি১/বি২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তবে তাঁকে অবশ্যই ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, বন্ডের এ অর্থের পরিমাণ ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘আই-৩৫২’ ফরমও জমা দিতে হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলিতে সম্মত হতে হবে।
আবেদনকারী পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই আবেদন করুন, এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়, ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কিছু পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বহির্গমন করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে অথবা তাঁদের দেশত্যাগের তথ্য সঠিকভাবে নথিবদ্ধ না হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
নির্ধারিত প্রবেশপথগুলোর মধ্যে রয়েছে, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: