ছবি: গ্রাফিক্স
জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে খরচে লাগাম টানছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্টের ব্যবসায়। সর্বশেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর প্রভাবে ওয়ালমার্টের সরবরাহকারী দেশগুলোর রফতানি আদেশ কমে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টোরগুলোর তুলনাযোগ্য বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। দুর্বল বিক্রয়ের তথ্য প্রকাশের পর প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমে যায়। তবে পুরো অর্থবছরের বিক্রি ও মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মূল্যসচেতন ক্রেতাদের কাছে ওয়ালমার্টের জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কম দামে পণ্য কিনতে প্রতিষ্ঠানটির দোকানে ভিড় করেছেন ক্রেতারা। ওয়ালমার্ট বলেছে, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের কারণে ওষুধের দাম কমে যাওয়ায় সর্বশেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিরল এ দুর্বল ফলাফল মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চলতি সপ্তাহে ওয়ালমার্ট, টার্গেট, হোম ডিপো, লোওয়েস ও টিজে ম্যাক্সের মালিক টিজেএক্স তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকলেও ক্রেতারা প্রতিটি ডলার ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেশি মূল্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্য, আবাসন ও জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজার দুর্বল রয়েছে এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ ও শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার হারও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠেছেন ভোক্তারা।
ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মূল্য কমানোর চেষ্টা করছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। জ্বালানির উচ্চমূল্য, শুল্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে ব্যয় বাড়লেও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অনেক জরুরি আমদানি শুল্ক ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক ফেরত পেয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ অর্থ পণ্যের দাম কমাতে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।
টার্গেট গত এক বছরে প্রায় ১০ হাজার পণ্যের দাম কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো পণ্যের দাম কমানোর পরিকল্পনা করছে। টার্গেটের প্রায় সব শিক্ষাসামগ্রীর দাম গত বছরের সমান অথবা তার চেয়ে কম রাখা হয়েছে। প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফিডেলকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্য কমানোর বিনিয়োগ ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়ালমার্টও পণ্যের দাম কমাচ্ছে। শুল্ক ফেরত হিসেবে পাওয়া অর্থের একটি অংশ মূল্যছাড়ে ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কম দামের পণ্য বিক্রেতা টিজে ম্যাক্স ও মার্শালসের মালিক টিজেএক্স অবশ্য ভালো ফল করেছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির তুলনাযোগ্য বিক্রি ৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতার উপস্থিতি ও প্রতিবার কেনাকাটায় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কয়েকশ দোকান খোলার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে চাপে রয়েছে গৃহসজ্জা ও বাড়ি সংস্কারের পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। উচ্চ বন্ধকি সুদের হার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পরিবারগুলো ব্যয়বহুল বাড়ি সংস্কারের পরিকল্পনা স্থগিত করছে। বাড়ি কেনাবেচাও দীর্ঘদিন ধরে কম।
লোওয়েসের প্রধান নির্বাহী মারভিন এলিসন বলেন, উচ্চ সুদ, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যম আয়ের বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে তুলেছে। আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যে খরচ করতে দ্বিধা করছেন। এখন খুচরা বিক্রেতাদের আশা, স্কুল খোলার মৌসুম ও বছর শেষের ছুটির কেনাকাটা সামনে রেখে মার্কিন ভোক্তারা ব্যয় কিছুটা বাড়াবেন।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: