যুক্তরাষ্ট্রে বিড়ালের খাবারে সীসা ও প্লাস্টিকসহ ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি

Maisha Mumtaz | ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা করা প্রায় সব ধরনের বিড়ালের খাবারে প্লাস্টিকজাত দূষক, আগাছানাশক গ্লাইফোসেট এবং সীসা, পারদ ও আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু পাওয়া গেছে। দেশটির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্লিন লেবেল প্রজেক্টের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় ৬২টি ব্র্যান্ডের ১০০টি জনপ্রিয় ক্যাটফুড নিয়ে এতে ১২২টিরও বেশি দূষক শনাক্তের পরীক্ষা চালানো হয়। এসব খাবারের ৯৯ শতাংশে সীসা, ৯৬ শতাংশে ক্যাডমিয়াম এবং ৯৪ শতাংশে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। ভেজা, শুকনা ও হিমায়িত—সব ধরনের খাবারেই এ ধরণের দূষকের উপস্থিতি ছিল।

গবেষণার লেখক ও ক্লিন লেবেল প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক মলি হ্যামিলটন বলেন, অধিকাংশ বিড়াল প্রতিদিন প্রায় একই খাবার খায়। ফলে খাবারে থাকা দূষক দীর্ঘ সময় ধরে তাদের শরীরে জমতে পারে। বিশেষ করে ভারী ধাতু নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে বিড়ালের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আর শরীর থেকে ভারী ধাতু বের করতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনা খাবারে সীসার পরিমাণ ভেজা ও হিমায়িত খাবারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে মাছ ও সামুদ্রিক খাবার দিয়ে তৈরি ক্যাটফুডে পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মাত্রা বেশি ছিল। অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের খাবারের তুলনায় মাছ বা সামুদ্রিক খাবারের ক্যাটফুডে পারদ প্রায় ১৮ গুণ এবং ক্যাডমিয়াম প্রায় আড়াই গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

মুরগির মাংস পারদ ও ক্যাডমিয়ামের দিক থেকে তুলনামূলক ভালো আমিষের উৎস হলেও এতে সীসা ও আগাছানাশকের উপস্থিতি বেশি ছিল। পরীক্ষায় ৩৭ শতাংশ ক্যাটফুডে গ্লাইফোসেট পাওয়া গেছে। খাবারের উপাদান তালিকার প্রথম ১০টির মধ্যে যত বেশি উদ্ভিজ্জ উপাদান ছিল, গ্লাইফোসেটের মাত্রাও তত বেশি ছিল। দুটি উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকা খাবারে একটি উপাদান থাকা খাবারের তুলনায় গ্লাইফোসেট প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি ছিল। পাঁচটি উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকলে এ মাত্রা প্রায় চার গুণ বেশি ছিল।

প্রায় অর্ধেক খাবারে ডিইএইচপি নামের এক ধরনের ফথালেটও পাওয়া গেছে। পিভিসি প্লাস্টিক ও কিছু খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণে ব্যবহৃত এ রাসায়নিক ক্যান ও পাউচজাত খাবারে বেশি পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় পিভিসি পাইপ বা অন্য সরঞ্জামের সংস্পর্শে এ রাসায়নিক খাবারে ঢুকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রতিটি পণ্যের মাত্র একটি ব্যাচ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই একই পণ্যের বিভিন্ন ব্যাচে দূষকের মাত্রার পার্থক্য ধরা পড়েনি। এ গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হয়নি।

গবেষকরা বলছেন, শুধু খাবারের উপাদান তালিকায় প্রথমে কী রয়েছে, তা দেখে এর নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়। কারণ মাছের কোন অংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেক সময় লেবেলে উল্লেখ থাকে না। তাই খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দূষক পরীক্ষা করে কি না এবং কত ঘন ঘন পরীক্ষা করে, তা জেনে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।