যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান সুলিভান

Maisha Mumtaz | ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান। মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সে জাতীয় দলের হয়ে গোল করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন সুলিভান। ম্যাচের ৬২ মিনিটে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেলের একটি পাস ধরে ফেলেন সুলিভান। এরপর দারুণ এক চিপে বল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান। এই গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেক্সিকো কনকাকাফ অঞ্চলে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সুলিভান মাত্র কয়েক দিন আগেই জাতীয় দলে অভিষেক করেছেন। মঙ্গলবার চিলির বিপক্ষে গোল করে ১৭ বছর ১৩১ দিন বয়সে রেকর্ড গড়া সতীর্থ মাথিস আলবার্টকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগে ১৭তম জন্মদিনের দুই দিন আগে পেরুর বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক করে যুক্তরাষ্ট্রের গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড় হয়েছিলেন সুলিভান।

ক্লাব ফুটবলেও এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই তরুণ। মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে এমএলএসে অভিষেক করে ফ্রেডি আদুর রেকর্ড ভেঙেছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সুলিভান শেষ আট এমএলএস ম্যাচে করেছেন ছয় গোল, সঙ্গে আছে আটটি অ্যাসিস্ট। তার পারফরম্যান্সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছে, যা ক্লাবটির রেকর্ড।

সেপ্টেম্বরের এমএলএসের মাসসেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন সুলিভান। চার ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্টসহ নয়টি গোলে অবদান রেখে সবচেয়ে কম বয়সে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। একই মাসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল অবদানের রেকর্ডও নিজের করে নেন।

মেক্সিকোর বিপক্ষে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ। সুলিভানকে ‘যোদ্ধা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বল পায়ে তরুণ এই ফুটবলারের দক্ষতা অসাধারণ এবং তার মতো খেলোয়াড় দলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ খবর।

নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলকে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সুলিভান। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় বছর বয়স থেকে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেন, তখন এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি শুধু গত কয়েক ঘণ্টা নয়, সারা জীবন এই মুহূর্তের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি।’

নিজের পরিবার এবং কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সুলিভান, ‘আমার পরিবার ও আমার জন্য এটি অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত। এমন সুযোগ পাওয়া সত্যিই সম্মানের। কোচরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং এই সুযোগ দিয়েছেন। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম গোলের অনুভূতি নিয়ে সুলিভান বলেন, ‘সবকিছু হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যায়। শুধু মনে আছে, বলটা চিপ করেছিলাম। আশা করছিলাম, ক্রসবারে লাগবে না বা ওপর দিয়ে চলে যাবে না। বলটা যখন আকাশে ছিল, তখন একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এরপর সবকিছু যেন চোখের পলকে ঘটে গেল।’