ফাইল ছবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি নির্বাহী আদেশে সড়কে করমুক্ত লাল রংয়ের ডিজেল (রেড-ডাইড ডিজেল) ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ডিজেল সাধারণত কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অফ-রোড যানবাহনে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপরও চাপ তৈরি করেছে।
নেব্রাস্কায় এক সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের বলেন, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অফ-রোড বা সড়কের বাইরে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেয়া হবে। ফলে যে কেউ যেকোনো প্রয়োজনে করমুক্ত লাল রংয়ের ডিজেল কিনতে পারবেন।
রেড-ডাইড ডিজেল সম্পর্কে নিজের অপরিচিতির কথা স্বীকার করে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘আমি জানি না এটা আসলে কী, তবে যাই হোক, বলা হচ্ছে এটা খুব ভালো।’
লাল রংয়ের ডিজেল মূলত সাধারণ ডিজেলের মতোই। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়ক বা হাইওয়ে জ্বালানি কর প্রযোজ্য হয় না। ডিজেলটিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য এতে লাল রং মেশানো থাকে।
তবে ট্রাম্প সমাবেশে যে ঘোষণা দিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্রে বিষয়টি কিছুটা সীমিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তথ্যপত্র অনুযায়ী, সড়কে লাল ডিজেল ব্যবহার করলে যে কর দিতে হয়, তা বছরের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো সুদ বা জরিমানা নেয়া হবে না। একইসাথে ভবিষ্যতে এই কর পুরোপুরি বাতিল করার উপায় খুঁজতে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সাথে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা নিজেদের বিবেচনামতো লাল ডিজেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিদর্শন বন্ধ করতে এবং চালকদের ওপর আরোপযোগ্য কর মওকুফ করতে পারবেন।
তবে হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইরানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে পরিশোধনাগারের সক্ষমতার ঘাটতিকে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন এনার্জি’ নীতির নামে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলো পরিশোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে বলেও হোয়াইট হাউস অভিযোগ করেছে।
নেব্রাস্কার সমাবেশে ট্রাম্প চলতি মাসে ইউরোপের সাথে হওয়া একটি চুক্তিরও প্রশংসা করেন। ওই চুক্তির আওতায় আগামী চার মাসে কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল পরিশোধিত ডিজেল বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাক, কৃষি যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ডিজেল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের বেশি উঠে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির পক্ষ থেকে রফতানি সীমিত করায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর আরো চাপ তৈরি হয়েছে।