ফাইল ছবি
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষায় দুর্বল বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় অপর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব পরাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলোনি লিখেছেন, নতুন নিয়মের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমিত রাখা এবং ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিশু স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি সামাজিক সেবা সংস্থাকে জানানো হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে আয়োজিত ইতালীয় ভাষার ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
তবে শিশু অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, জাতীয়তা বা ইতালীয় ভাষায় দুর্বলতার কারণে শিশুদের আলাদা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হতে পারে।
ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেন, ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে নতুন নিয়ম মূলত নতুন আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা দেশটির কিন্ডারগার্টেনে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বোরকা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কোনো নারী বা অল্পবয়সী মেয়েকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করা হলে তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর