ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সহিংসতা ও শত শত কোটি টাকার সম্পদহানির ঘটনায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট চরম রূপ ধারণ করেছে। আগামী বসন্তে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ঘটা এসব দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা হিসেবে স্বীকার করেছেন।
রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, বোর্দো ও লিমোজের মতো বড় বড় শহরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আসন্ন ধর্মঘট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমান প্রশাসন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক মধ্যপন্থার দুর্বলতা ফ্রান্সের সমাজকে আরও বেশি মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও এখন স্থবিরতার মুখে পড়েছে। উচ্চ সরকারি ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের কারণে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মাঝেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির জিডিপি অনুপাতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণে পৌঁছেছে, যা আসন্ন সরকারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। একসময়ের আশাবাদী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ম্লান হয়ে বর্তমানে ফরাসি সমাজে হতাশা ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার শঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।