ছবি : সংগৃহীত
রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার নতুন এক পেশাগত অধ্যায় শুরু করলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। চলতি মাস থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেসিন্ডা আরডার্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য অনুষদের অধীন জনস্বাস্থ্য স্কুলে শিক্ষকতা করবেন। তাঁর মূল কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার্থীদের বিশেষ বক্তৃতা দেওয়া, কর্মশালা পরিচালনা করা এবং গবেষকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করা। বিশেষ করে সহমর্মী নেতৃত্ব, সামাজিক ঐক্য, নাগরিক আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি গবেষণাগার এবং উপাচার্যের দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মার্ক স্কট তাঁকে ক্যাম্পাসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বলেন, জনজীবনে আরডার্নের সাহস, দৃঢ়তা এবং মানবিক নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে এবং তাঁর উপস্থিতি পুরো শিক্ষাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে। নতুন এই দায়িত্ব নিয়ে আরডার্ন আনন্দ প্রকাশ করে জানান, রাজনীতি ছাড়ার পর থেকেই তিনি নেতৃত্ব বিকাশ ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে চান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এর আগে ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলা ও করোনা মহামারির মতো বড় বড় সংকট অত্যন্ত দৃঢ়তা ও মানবিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। রাজনীতি ছাড়ার পর তিনি বিশ্বের খ্যাতনামা হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।