ফাইল ছবি
ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে জোর করে প্রবেশ করা এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা। সূত্রমতে, ওই ব্যক্তির কাছে একটি শটগান এবং একটি জ্বালানি ভর্তি পাত্র ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এই ঘটনার সময় ট্রাম্প সেখানে ছিলেন না। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ (স্থানীয় সময় রোববার) ভোরে মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানার ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশ করার পর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে।’
সিক্রেট সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি আজ শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির বয়স ২০-এর কোঠায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানায় অননুমোদিত প্রবেশের পর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট এবং পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিসের (পিবিএসও )একজন ডেপুটি ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ‘নিহত ব্যক্তির পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে যতক্ষণ না তার নিকটাত্মীয়দের জানানো হচ্ছে। তাকে মার-এ-লাগোর উত্তর গেটে একটি শটগান এবং একটি জ্বালানি ক্যান সদৃশ বস্তু বহন করতে দেখা গিয়েছিল।’
এই এনকাউন্টারে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হননি বলে জানানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত, কর্মকাণ্ড, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং বলপ্রয়োগের বিষয়টি বর্তমানে এফবিআই, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এবং পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস তদন্ত করছে। সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের রুটিনমাফিক প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যিনি প্রায়ই মার-এ-লাগোতে সপ্তাহান্ত কাটান, এর আগেও বেশ কয়েকবার হত্যাচেষ্টা বা ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এ মাসের শুরুর দিকে ৫৯ বছর বয়সী রায়ান রুথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রুথ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দুই মাস আগে ফ্লোরিডার একটি গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।
রুথের সেই পরিকল্পিত হামলার দুই মাস আগে পেনসিলভেনিয়ায় রিপাবলিকান নেতার ওপর আরও একটি হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেখানে ২০ বছর বয়সী ম্যাথিউ ক্রুকস একটি নির্বাচনী জনসভায় বেশ কয়েকটি গুলি ছুড়েছিলেন, যার মধ্যে একটি ট্রাম্পের ডান কান স্পর্শ করে চলে যায়। সেই হামলায় একজন দর্শক নিহত হয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পথে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হয়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ক্রুকস নিহত হন এবং তার উদ্দেশ্য এখনো অজানা।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: