জি৭ সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনে শান্তির জন্য চাপ দেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৬ জুন ২০২৬ ২০:২৬

সংগৃহীত সংগৃহীত

ফ্রান্সের এভিয়াঁয় চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দীর্ঘ আলোচনার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পূর্ব ইউরোপে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে এবং ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটন এখন থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির সফল বাস্তবায়নের পর এবার ইউক্রেন সংকট নিরসনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধান যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা এবং একটি টেকসই শান্তি পরিকল্পনার রূপরেখা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেলেনস্কিকে আশ্বস্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার পাশাপাশি মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্ব রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য কূটনৈতিক সমাধান দ্রুত বের করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস।

শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনকারী দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জি-৭ ভুক্ত অন্যান্য দেশের নেতারা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পর যদি হোয়াইট হাউস ইউক্রেন সংকটেও সফল মধ্যস্থতা করতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট বড় মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার এই পথটি বেশ জটিল। কারণ কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার ভূখণ্ডগত বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অনমনীয়তা দূর করা বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও জি-৭-এর মতো শক্তিশালী বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দৃঢ় ঘোষণা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন জোরালো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যার ওপর এখন পুরো বিশ্ব গভীর নজর রাখছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: