সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হতো না বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণেই ইসরাইল আজ মধ্যপ্রাচ্যে এতটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে এই দৃঢ় সমর্থনের পাশাপাশি লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের এভিয়াঁয় অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউস ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের প্রতি তার প্রশাসনের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ইসরাইলের সুরক্ষায় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তবে নেতানিয়াহুর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে, ইরানের সাথে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের আকস্মিক বিমান হামলাকে তিনি অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও 'অপছন্দনীয়' বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে ব্যাপক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় সাধারণ মানুষের জীবন ও স্থাপনার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কোনো একজনকে খোঁজার অজুহাতে পুরো একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওইসব ভবনে শত শত সাধারণ মানুষ বাস করেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।
হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলার বিষয়ে একটি নতুন কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে সিরিয়াকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, সিরিয়া এই কাজটি ইসরাইলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মহলে যখন লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি তাদের সামরিক কৌশলের এমন প্রকাশ্য সমালোচনাকে একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: