সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সহায়তায় গুগলের বিতর্কিত এআই চুক্তির প্রতিবাদে অনুষ্ঠান চলাকালীন সমাবর্তন বর্জন ও ওয়াকআউট করেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। গত রোববার (১৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের নির্ধারিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। স্ট্যানফোর্ডের সাবেক এই শিক্ষার্থীর নাম যখন সমাবর্তনের মূল বক্তা হিসেবে মঞ্চে ঘোষণা করা হয়, ঠিক তখনই অনুষ্ঠানস্থলে তুমুল হট্টগোল ও বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দর পিচাই মঞ্চে আসার সাথে সাথে শত শত শিক্ষার্থী সমাবর্তনের প্রথাগত পোশাক ও টুপি পরেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। তারা ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, বাঁশি বাজানো এবং যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ম্যাটব্রাউন নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এই ওয়াকআউটের ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং লাখ লাখ মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেন। ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ এবং ‘নো টেক ফর অ্যাপারথাইড’ নামের দুটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে ইসরাইল সরকারের সাথে গুগলের শত কোটি ডলারের বিতর্কিত ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চুক্তি, যা ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির আওতায় ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার ও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী গুগলের অত্যন্ত উন্নত এআই প্রযুক্তি, ইমেজ রিকগনিশন এবং ক্লাউড ডেটা সেন্টার ব্যবহারের একচেটিয়া সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালাচ্ছে। এই অনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে গুগলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র আন্দোলন চলছে।
সমাবর্তন বয়কটকারী শিক্ষার্থীরা মূল অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে এসে ‘পিপলস কমেন্সমেন্ট’ নামে একটি বিকল্প ও সমান্তরাল সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ওই বিকল্প অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ মাহমুদ খলিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে মাহমুদ খলিলকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রেখেছিল। সমাবর্তনের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন জোরালো বিক্ষোভ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ফিলিস্তিন ইস্যুতে ছাত্রসমাজের ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: