ফাইল ছবি
ইউক্রেনে স্টারশিল্ড সেবার কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে মাস্ক বলেছিলেন, এই সেবার ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্ক ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় যে গতিতে সংযুক্ত হতে পারে, তা সীমিত করে দেন। এতে ইউক্রেনের কিছু ড্রোন কার্যকারিতা হারায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, স্টারশিল্ড সেবায় কোনো পরিবর্তন আনার নির্দেশ পেন্টাগন দেয়নি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো সেবা প্রত্যাহার করিনি। আমাদের অবস্থান থেকে কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেইনি।’
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, স্টারশিল্ড সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের জন্য তিনি কোনো অনুরোধ করেননি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমি করিনি। আর আমার মনে হয় না, ইলনও এটা করেছেন।’
গত সপ্তাহে ইউক্রেন স্টারশিল্ড সেবায় বিধিনিষেধের কথা জানায়। এর কিছুদিন আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের সমালোচনা করে দেশটিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেনের জন্য এ বিধিনিষেধ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মাস্ক বলেছিলেন, স্টারশিল্ড ব্যবস্থার ‘গতি বা ব্যবহারের ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা, রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ডে মাঝারি পাল্লার হামলা এবং শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনার কাজে স্টারশিল্ড ব্যবহার করে। স্টারলিংকের সামরিক ব্যবহারের উপযোগী সংস্করণ হলো স্টারশিল্ড।
পাশাপাশি স্পেসএক্সের বেসামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকও ব্যবহার করে ইউক্রেন।