ফাইল ছবি
ইরানের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, তা প্রকাশ করেছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত শুক্রবার বিকেলে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় মাত্র ৯টি শব্দের একটি বার্তার মাধ্যমে এই অভিযানের সবুজসংকেত দেন প্রেসিডেন্ট।
গতকাল সোমবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী (বর্তমানে সমরমন্ত্রী) পিট হেগসেথের সঙ্গে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন জানান, গত শুক্রবার বেলা ৩টা ৩৮ মিনিটে হোয়াইট হাউস থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন আসে। ট্রাম্পের সেই ঐতিহাসিক নির্দেশটি ছিল—‘Operation Epic Fury is approved. No aborts. Good luck.’ (অপারেশন এপিক ফিউরি অনুমোদিত। প্রত্যাহার নয়। শুভকামনা।)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান ইতিমধ্যে পাল্টা হামলার বিস্তৃতি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানি হামলায় ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে থাকাকালীন যুদ্ধের আদেশ দেন ট্রাম্প। মজার ব্যাপার হলো, বিমান থেকে নামার পর সাংবাদিকেরা যখন তাঁকে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি তা সুকৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি এটি এখন বলতে চাই না। বললে তো এটি ইতিহাসের সেরা ‘‘স্কুপ’’ (এক্সক্লুসিভ খবর) হবে, তাই না?’
এক সাক্ষাৎকারে ও পরে ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, ‘এটি খুব একটা কঠিন হবে না। আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ আছে, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।’
তবে এই অভিযানকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধ বলতে নারাজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, এটি ইরাক যুদ্ধের মতো অন্তহীন কোনো যুদ্ধ নয়। তবে এই অভিযানের ফলে ইরানের শাসনের পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিশ্ব এখন আগের চেয়ে নিরাপদ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ১০০টির বেশি যুদ্ধবিমান নিয়ে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: