ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছিলেন, তা এখন সুপ্রিম কোর্টেই বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে।
বুধবার আদালতের শুনানিতে অংশ নেন ট্রাম্প নিজে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল। তবে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ আদালত হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ বিচারপতি ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুক্তিগুলোকে ‘অসংলগ্ন’ এবং ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ‘নাগরিকত্ব ধারা’ উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্ব বদলে গেলেও সংবিধানের মূল ভিত্তি অপরিবর্তিত থাকে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের আইনজীবী ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্ব পেতে বিদেশিদের সফরের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তি দিলেও তা আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তবে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটোর মতো কেউ কেউ ট্রাম্পের এই ‘বৈধ আবাসন’ নীতির প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছেন।
আদালতের এমন মনোভাবের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন ট্রাম্প। নিজের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতিদের ‘নির্বোধ’ ও ‘অবিশ্বস্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ভালো কাজ করছে না। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি হওয়ায় আদালত এখানে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেওয়ার ঝুঁকি নেবে না। আগামী জুনের শেষে এই মামলার চূড়ান্ত রায় আসার কথা রয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: