সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা প্রায় একদিন ব্যাপী চলা আলোচনা শেষে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেলেও, দুই পক্ষের মৌলিক অবস্থানের পার্থক্য ঘুচেনি।
রবিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার ফলাফল তুলে ধরেন জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, "আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা ইতিবাচক। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা এখনো সম্ভব হয়নি।" কোনো চুক্তি ছাড়াই প্রতিনিধি দলটি ফিরে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ভ্যান্স উল্লেখ করেন যে, একটি নমনীয় এবং 'সৎ উদ্দেশ্য' নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমরা একটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সহজ প্রস্তাব রেখেছি, যা আমাদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত। এখন দেখার বিষয় ইরানি পক্ষ সেটি গ্রহণ করে কি না।"
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'ইসলামাবাদ টকস' শিরোনামের এই আলোচনা শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। সম্মেলনে ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন যে, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনোভাবেই আপস করা সম্ভব নয় এবং সেই 'রেড লাইন' বা সীমারেখাগুলো ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন না করার বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও নির্ভরযোগ্য অঙ্গীকার চেয়েছে ওয়াশিংটন। ভ্যান্সের মতে, এটিই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমঝোতা না হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের কোনো দায় নেই; বরং তারা দুই দেশের দূরত্ব ঘোচাতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আপাতত কোনো সমাধান না এলেও, ভবিষ্যতে একটি ইতিবাচক প্রতিশ্রুতির আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: