ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৫

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইরানে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তরটির অভ্যন্তরীণ ইমেইলের বরাত দিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

ইমেইলটিতে মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে, স্পেনকে ন্যাটো থেকে বাদ দেওয়া এবং ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা জানান, ইমেইলটিতে কিছু মিত্র দেশের প্রতি হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব দেশ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার (অ্যাক্সেস), অবস্থানগত সুবিধা (বেসিং) ও আকাশসীমা অতিক্রমের (ওভার ফ্লাইট) অনুমতি দিতে রাজি হয়নি। এই তিন ব্যবস্থা সাধারণত ‘এবিও’ নামে পরিচিত।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইমেইলে বলা হয়েছে ‘এবিও’ হলো ন্যাটোর একেবারে ন্যূনতম শর্ত। তাই শাস্তির বিকল্পগুলো নিয়ে পেন্টগনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। ইমেইলে উল্লিখিত একটি বিকল্পে কিছু দেশকে ‘ডিফিকাল্ট’ বলে উল্লেখ করে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি খুলতে সহায়তা করতে ন্যাটো মিত্ররা নৌবাহিনী পাঠায়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরিয়ে নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

তবে নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রস্তাব নেই। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি বন্ধ করার কথাও বলা হয়নি।

ইমেইলের বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলে উইলসন প্রেসিডেন্টের করা একটি মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, ন্যাটো মিত্রদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এত কিছু করার পরও তারা আমাদের পাশে ছিল না।’

উইলসন আরও বলেন, ‘মিত্ররা কাগুজে বাঘ না হয়ে যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করে সেজন্য প্রেসিডেন্টের হাতে কার্যকর বিকল্প রাখার বিষয়টি যুদ্ধ বিভাগ নিশ্চিত করবে। অভ্যন্তরীণ আলোচনা নিয়ে আমাদের আর কোনো মন্তব্য নেই।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সরাসরি বিরোধীতা করেছিলেন। পাশাপাশি সমর্থন দিতেও অস্বীকৃতি জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার তিনি বলেছেন, তাঁর দেশ ন্যাটোর একটি বিশ্বস্ত সদস্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে সাইপ্রাসে আছেন সানচেজ। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্পেন নিজেদের সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। তাই সংস্থাটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয় নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।

বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, স্পেন ছাড়াও ফ্রান্স ও ইতালি যুদ্ধে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। যুক্তরাজ্য শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে শুধু ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: