এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে রহস্যময় ‘মসজিদ’ ও কাবার গিলাফ: চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ মে ২০২৬ ১৬:৪৮

সংগৃহীত সংগৃহীত

সাড়া জাগানো জেফরি এপস্টেইন ফাইলস থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত অর্থলগ্নিকারী ও কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টেইন ক্যারিবীয় অঞ্চলে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা ও সোনালি গম্বুজবিশিষ্ট রহস্যময় ভবন নির্মাণ করেছিলেন। বিভিন্ন চিঠিপত্র ও নথিতে এপস্টেইন নিজে এই ভবনটিকে ‘মসজিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

যদিও তিনি নিজেকে ধর্ম নিরপেক্ষ ইহুদি দাবি করতেন, তবুও লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ডের সেই ভবনের সাজসজ্জার জন্য তিনি উজবেকিস্তান থেকে বিশেষ টাইলসের নমুনা আনিয়েছিলেন। ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভবনটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা থাকলেও বিচার বিভাগের নথিতে একে ঘিরে এপস্টেইনের বিশেষ আগ্রহের প্রমাণ মিলেছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত তথ্য হলো, এপস্টেইন তার সংগ্রহে পবিত্র মক্কার কাবার অত্যন্ত মূল্যবান তিনটি নিদর্শন রেখেছিলেন। এর মধ্যে ছিল কাবার অভ্যন্তরের দুর্লভ গিলাফ, স্বর্ণ-রুপার সুতোয় বোনা কিসওয়া এবং কাবার কাপড় তৈরির বিশেষ কারখানার নিদর্শন। সৌদি আরবের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই পবিত্র বস্তুগুলো সংগ্রহ করেন। একজন সৌদি প্রতিনিধির ইমেইল থেকে জানা যায়, এই কিসওয়াগুলো কোটি কোটি মুসলিমের আবেগ ও প্রার্থনার স্মৃতি বহন করছিল। একজন কুখ্যাত অপরাধীর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ইসলামের এমন পবিত্র নিদর্শন থাকা এবং সেগুলো মেঝেতে গালিচা হিসেবে ব্যবহার করার সংবাদে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এপস্টেইনের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও মিলেছে এসব নথিতে। বিভিন্ন ছবিতে তাকে আরব বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও রান্না করার মতো ঘরোয়া পরিবেশে দেখা গেছে। ২০০৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি গর্ব করে বলেছিলেন যে, তার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম পার্সিয়ান গালিচা রয়েছে যা একটি মসজিদ থেকে সংগৃহীত। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার এই অন্ধকার জগতের অনেক অধ্যায় এখনো উন্মোচিত হচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের হারিকেনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেই দ্বীপের পবিত্র নিদর্শনগুলো বর্তমানে কোথায় আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: